রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ১০ দিনের বেশি সময় ধরে বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে বাড়তে শুরু করেছে শাখা নদ-নদী ও খাল-বিলের পানিও। প্লাবিত হচ্ছে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা ও ফসলি জমি। বাড়িঘরে পানি ওঠায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে শুরু করেছে নিম্নাঞ্চলের মানুষ।
সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার বণিক বার্তাকে জানান, সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে গতকাল যমুনার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭৪ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার। অন্যদিকে কাজীপুরের মেঘাই পয়েন্টে ১৪ দশমিক ৪৬ মিটার সমতলে পানি বইছে। একদিনে ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে তা প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে। মেঘাই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার।
এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ভেতর করতোয়া, ফুলজোড়, ইছামতি, হুড়াসাগর ও বড়ালসহ অন্যান্য নদী ও খাল-বিলের পানি বেড়েই চলেছে। এতে জেলা সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হচ্ছে। চলনবিলঅধ্যুষিত তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমিসহ বসতবাড়ি।
প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে কয়েকদিন যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আরো দুই-তিনদিন বাড়বে, এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।’
যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পাউবো। সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জেলায় যমুনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রতিদিন যমুনার তীর রক্ষার জন্য তৈরি বিভিন্ন বাঁধ তদারক করা হচ্ছে। জেলার নদী তীর রক্ষা বাঁধ ও নদীভাঙন রোধে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া আছে। জেলার কাজিপুরের মেঘাই ও এনায়েতপুরের যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছিল সেখানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করা হয়েছে। এছাড়া এনায়েতপুর থেকে শাহজাদপুরের পাঁচ ঠাকুরী পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনরোধে স্থায়ী নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০০ হেক্টর বিভিন্ন ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না বলে আশা করা যায়।’
নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অনেক বসতবাড়িতে পানি উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাম বা ইউনিয়ন নিমজ্জিত হয়নি বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান। আগাম প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মানুষ পানিবন্দি হওয়ার খবর আমাদের কাছে নেই। তবে আগাম বন্যার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। এর জন্য নগদ ১৯ লাখ টাকা ও ৭৪০ টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র খুলতে হয়নি এখনো।’